প্রবাদ-প্রবচন

by Admin
Back

অকর্মা নাপিতের ধামা ভরা ক্ষুর – অযোগ্যতা ঢাকার জন্য বাড়তি আয়োজন।
অতি চালাকের গলায় দড়ি – বেশি চালাকি করে অপরকে ঠকালে, নিজেকেও বিপদগ্রস্থ হতে হয়।
অতি দর্পে হত লঙ্কা – অহংকার করলে পতন আসবেই।
অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ – কপট ব্যক্তিরা বাহ্যিকভাবে ভক্তি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে।
অধিক সন্যাসীতে গাঁজন নষ্ট – বেশি লোক হলে কাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
অনভ্যাসের ফোঁটা কপাল চড় চড় করে – অনেক সময় হঠাৎ করে আসা সুখ অসহ্য লাগে।
আপনা মাঁসে হরিণা বৈরী – হরিণের মাংসের লোভেই হরিণকে মানুষ বধ করে, তাই বলা যায়, মাংসই এর শত্রু।
অভাগা যেদিকে চায়, সাগর শুকিয়ে যায় – দূর্ভাগার সকল কাজেই ব্যর্থতা নেমে আসে।
অভাবে স্বভাব নষ্ট – অভাবে পড়লে ভাল মানুষও অসৎ হয়।
অল্প জলের লঙ্কা – ক্ষুদ্র প্রাণ, অল্প পুঁজির মানুষ।
অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্করী – স্বল্প জ্ঞানীর সাধ্যাতীত কর্মের পরিণতি মারাত্মক।
অসারের তর্জন গর্জন সার – গুণহীনের ব্যর্থ আস্ফালন,অক্ষম লোকের হাঁকডাক বেশি।

আঁতুরে নিয়মো নাস্তি – প্রয়োজন রীতিনীতি মানে না।
আইছেরে ভাই কলি কাল, ছাগিয়ে চাটে বাঘর গাল – অসামঞ্জস্য ।
আইজ বুঝবিনা বুঝবি কাইল বুক চাপরাব পারবি গাইল – কাউকে কোন বিষয়ে বার বার সাবধান করার পরেও না শোনা।
আইল দারুন বারিষা কাল, ছাইগ্যে চাটে বাঘর গাল – সময় খারাপ।কেয়ামতের আলামত।প্রবল শত্রু রাও মিত্র এখন!
আগে দর্শনদারী পরে গুণ বিচারী – বাহ্যিক সৌন্দর্য দ্বারাই মানুষ প্রথম আকৃষ্ট হয়।
আগে – পিছে লণ্ঠন, কাজের বেলা ঠন্ঠন্ – আড়ম্বর ও আয়োজনে বাড়াবাড়ি, কিন্তু কাজের সময় ফাঁকি।
আঙুল ঘুরিয়ে পাঁচিল দেওয়া – বাঁকাভাবে কাজ করা।
আঙ্গুর ফল টক – পান না তাই খান না।
আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ – অবিশ্বাস্য উন্নতি।
আটে – পিঠে দর, তো ঘোরার পিঠে চড় – যোগ্যতা অর্জন করেই কাজে নামা উচিত।
আতি চোর পাতি চোর, হতে হতে সিঁদেল চোর – ছোট খাট অন্যায় করতে করতে বড় ধরনের অন্যায় করতে শেখা।
আত্মা রেখে ধর্ম – আপনি বাঁচলে বাপের নাম।
আদার বেপারীর জাহাজের খবর – অনধিকার চর্চা, সামান্য কাজের লোক।
আদ্যিকালের বদ্যি বুড়ো – খুব প্রাচীন ব্যক্তি।
আপনার মান আপনার কাছে – নিজেকে নিজে সম্মান করলে অন্যের সম্মান পাওয়া যা।
আপনি আচরি ধর্ম অপরে শিখাও – যা নিজে মান না, তা অপরকে শিখাবে না।
আপনি বাঁচলে বাপের নাম – নিজের স্বার্থ রক্ষা করা, আগে আত্মচিন্তা পরে পিত্ররশ্রদ্ধা/ আত্মা রেখে ধর্ম ।
আপনি শুতে ঠাঁই নেই, শঙ্করাকে ডাকে – অন্যের দয়ায় জীবন ধারণ করে আবার অন্যকে সাহায্য করার চেষ্টা।
আপন কোলে ঝোল টানা – নিজের স্বার্থকেই বড় করে দেখা।
আপন চেয়ে পর ভালো – অপ্রত্যাশিত কারো সাহায্য লাভ।
আপন নাক কেটে পরের যাত্রা নষ্ট করা – অপরের অনিষ্ট সাধনের জন্য নিজের ক্ষতি স্বীকার করা।
আপন পাঁজি পরকে দিয়ে দৈবজ্ঞ বেড়ায় পথে পথে – অন্যের উপকার করতে গিয়ে নিজের ক্ষতি করে ফেলা।
আপন পায়ে কুড়াল মারা – নিজের ক্ষতি নিজে করা।
আপন বুদ্ধি ছিলো ভালো, পর বুদ্ধিতে পাগল হলো – নিজের বুদ্ধিতে কাজ না করে, পরের বুদ্ধির উপর ভরসা করে বিপদে পরা।
আপন ভালো ত জগৎ ভালো – নিজে ভালো হলে জগৎ সংসারসহ সবকিছু ভালো লাগে।
আপন হাত জগন্নাথ, পরের হাত এঁটো পাত – নিজের শক্তিই সবচেয়ে বড় শক্তি।
আপ ভালা তো জগৎ ভালা – নিজে ভাল হলে সকলই ভাল হয়।
আমি যার করি আশ সেই করে সর্বনাশ – কারও কাছে ফল প্রাপ্তির আশা করে বিফল হওয়া।
আমড়াগাছি করা – বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য তোষামোদ করা।
আমড়া গাছে আম হয় না – মন্দ লোকের কাছে ভাল ব্যবহার আশা করা যায় না।
আসলে মুষল নেই ঢেঁকি ঘরে চাঁদোয়া – উপযুক্ত ব্যবস্থা অবলম্বনের অভাব।
আহ্লাদের বউ তুমি, কেঁদোনা কেঁদোনা, চাল চিবিয়ে খাব আমি, রেধোনা রেধোনা – দারুন মজার হাহাহাহ্।

ইঁদুর চেনে না ভাগবত পুঁথি – সর্বস্ব অনিষ্টকারী।
ইচ্ছে থাকলে উপায় হয় – প্রবল ইচ্ছা থাকলে কঠিন কাজও সম্পন্ন করা সম্ভব।
ইটটি মারলে পাটকেলটি খেতে হয় – অপরের ক্ষতি করলে নিজেরও ক্ষতি হয়।

উচিত কথায় বন্ধু বেজার – সত্য কথা বললে আপনজনও কষ্ট পায়।
উঠন্তি মুলো পত্তনেই চেনা যায় – ভবিষ্যতের আভাস শুরুতেই মেলে।
উঠন্ত বৃক্ষ পত্তনেই চেনা যায় – কাজের আরম্ভ দেখেই পরিণাম বোঝা যায়।
উঠি উঠি করে শুই, উঠতে লাগে দিন দুই – আলস্যে সময় নষ্ট করা।
উদোরপিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে – একের দোষ অন্যের উপর চাপানো।
উনো ভাতে দুনো বল, ভরা ভাতে রসাতল – অল্প বা পরিমাণমত আহার স্বাস্থ্যকর।
উপদেশের চেয়ে দৃষ্টান্ত ভাল – হাতে কলমে ও দৃষ্টান্তমূলক শিক্ষাই কার্যকর ।
উলুবনে মুক্তা ছড়ানো – অযোগ্য পাত্রে মূল্যবান বস্তু দান করা ।
উড়ো খই গোবিন্দায় নমঃ – হাতছাড়া জিনিস দান করা ।

এঁটোপাত না যায় স্বর্গে – পরমুখাপেক্ষীর সমৃদ্ধি সম্ভব হয় না।
একে মা মনসা, তায় ধুনোর গন্ধ – কোপন স্বভাবের ব্যক্তিকে চটানো ।
এক করতে আরেক – ভালো করতে গিয়ে মন্দ হওয়া।
এক কড়ার মুরোদ নাই ভাত মারার গোসাই – আয় না করে ব্যয় করা, বেকার আর কি!!
এক গাঁয়ের কুকুর আর গাঁয়ের ঠাকুর – স্থানান্তর করে নিজ পরিচয় লুকিয়ে সাধু সাজা।
এক গোয়ালের গরু/এক ঝাঁকের কই – একই দল বা মতের লোক।
এক মুরগী কবার জবাই – একই জিনিস বার বার প্রকাশ অর্থে।
এত সুখ যদি কপালে তবে কেন তোর কাঁথা বগলে – নিজের অবস্থা বাড়িয়ে বর্ণনাকারীকে উপহাস ।
এরেণ্ডাও গাছ, পুঁটিমাছ ও মাছ – যোগ্য লোক না থাকলে সামান্য লোকও যোগ্যের মর্যাদা পেতে চায়।

ওঠ ছুঁড়ি তোর বিয়ে – আকস্মিকভাবে বড় বিষয় সম্পন্নের চেষ্টা।
ওল বলে মান কচু তুমি বড় লাগো – নিজের দোষ ঢেকে অন্যকে গালমন্দ করা।
ওষুধের চেয়ে পথ্যি ভাল – উপাদেয় খাদ্য শরীর ভাল রাখ।
ওস্তাদের মার শেষ রাতে – যতার্থ ব্যক্তি শেষ পর্যন্ত সফল হয়, সব ভাল তাঁর শেষ ভাল যার/ শেষ রক্ষাই রক্ষা ।

কত ধানে কত চাল – অভিজ্ঞতা অর্জন।
কথায় টলার চেয়ে পায়ে টলা ভালো – কথার পরিবর্তন না করে চলে যাওয়াই(পা বাড়ানো) শ্রেয়।
কপালে নাই ঘি, ঠকঠকালে হবে কি – ভাগ্যে না থাকলে কিছুই পায়া যায় না।
কর্কশ কথা অগ্নিদাহের চেয়েও ভয়ঙ্কর – কটাক্ষ কথার তীব্রতা।
কলাপোড়া খাও – শ্রদ্ধার অনুষ্ঠানে কলা পোড়ার নিয়ম আছে। শাদ্ধের ইঙ্গিত করে গালি দেওয়া অর্থাৎ মর।
কলা বউ – লজ্জাশীলা বউ।
কাঁচা বাঁশে ঘুণ ধরা – অল্প বয়সে বিগড়ানো ।
কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা – কানে জল দিয়ে জল বের কর।
কাকের বাসায় কোকিলের ছা – জাত স্বভাবের করে রা – রঙ যায়না ধুলে স্বভাব যায় না মলে, জন্মগত অভ্যাস পরিত্যাগ করা দুঃসাধ্য।
কাকের মাংস কাকে খায় না – স্বজন বা সগোত্রের প্রতি অনুরাগ।
কাজের বেলায় কাজি কাজ ফুরালে পাজি – হাতে পায়ে ধরে কাজ করানো আর কাজ ফুরালে খোঁজ না নেয়া।
কানে দিয়েছি তুলো পিঠে বেঁধেছি কুলো – প্রতিবাদ না করে অন্যায় সহ্য করা, নিজেকে সংশ্লিষ্ট না করা।
কারো শাকে বালি কারো দুধে চিনি – ক্ষতিগ্রস্তের আরো ক্ষতি, লাভবানের আরো লাভ।
কাল রাম রাজা হবে আজ বনবাস – আকস্মিক বিপর্যয়।
কিনতে ছাগল বেচতে পাগল – প্রয়োজন কোন যুক্তি তর্কের ধার ধারে না।
কিল খেয়ে কিল হজম – লোক লজ্জার ভয়ে নিরবে অপমান সহ্য করা।
কুকুরের পেটে ঘি সয় না – স্বভাব বিরুদ্ধ হলে ভালো জিনিস ও অপকারের কারণ হয়।
কোকিলের বউ ছেলে ধরতে জানে না – অনভিজ্ঞতার কথা বলতে। যেহেতু কোকিলের ডিম তা দিয়ে ছানা প্রতিপালন করে কাক।

খাই দাই কাঁসি বাজাই – নিষ্কর্মা জীবন যাপন। খাই দাই ডুগ ডুগি বাজাই – একই অর্থ।
খাস তালুকের প্রজা – খুব অনুগত ব্যক্তি।
খুঁটির জোড়ে ভেরা নাচে – শক্তিমানের সাহায্যে শক্তি বৃদ্ধি হয়।
খোদার উপর খোদকারী – দক্ষ লোকের কাজের উপর অদক্ষ লোকের হস্তক্ষেপ।
খোদার মার দুনিয়ার বার – প্রাকৃতিক কারণে যা ঘটে তা রোধ করার শক্তি মানুষের নাই।
খোশ খবরের মিথ্যা ও ভাল – ভাল খবর মিথা প্রতিপন্ন হলেও সুসংবাদ।

গঙ্গা জলে গঙ্গা পুজো – যার জিনিস তাকেই দান করা।
গলায় গামছা দেওয়া – মৃত্যু চাওয়া ।
গাছের খাওয়া তলারও কুড়ানো – সমুদয় আত্মসাৎ করা।
গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল – আয়ত্তে না আসতেই আড়ম্বর।
গাছে তুলে দিয়ে মই কেড়ে নেওয়া – উৎসাহ দিয়ে কর্মে প্রবৃত্ত করে অসহায় অবস্থায় সরে দাঁড়ানো।
গাছে না উঠতেই এক কাঁদি – কাজে অবতীর্ণ হওয়া মাত্রই ফল প্রাপ্তি।
গায়ে ফুঁ দিয়ে বেড়ানো – দায়িত্ব গ্রহণের পরিবর্তে ঘুড়ে বেড়ানো।

ঘটি ডোবে না নামে তাল পুকুর – অক্ষমতা সত্ত্বেও বড়াই করা।
ঘরের মধ্যে ঘর জনে জনে হাওলাদার – ঘরের সবাই নিজেকে মাতব্বর মনে করে !
ঘষতে ঘষতে পাথরের ও ক্ষয় হয় – কোন জিনিসই চিরস্থায়ী নয়।
ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়া – বড় রকমের বিপদ থেকে উদ্ধার লাভা।
ঘাড়ের ভূত নামানো – দুর্বুদ্ধি ত্যাগ করা।
ঘুঁটে পোড়ে গোবর হাসে – স্বজাতীর কারো দুঃখে আনন্দ লাভ করা।
ঘুঘু দেখেছ ফাঁদ দেখনি – চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চিন্তা করা, আনন্দের আড়ালে দুঃখের ইঙ্গিত, মন্দ লোককে জব্দ করা।
ঘোমটার নিচে খেমটা নাচ – বাইরে সাধু ভিতরে খল।

চাঁদেরও কলঙ্ক আছে – যোগ্য ব্যাক্তিরাও ত্রুটি মুক্ত নন।
চাল না চুলো ঢেঁকি না কুলো – নিতান্ত নিঃস্ব।
চুন খেয়ে গাল পোড়ে, দই দেখলে ভয় করে – ঘড়পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়।
চুরে চুরে আলি, এক চুরে বিয়া করলা আরেক চুরর হালি(শালি) – চোরে – চোরে মাসতুতো ভাই।
চেরাগ/প্রদীপের নিচে অন্ধকার – ভালো – মন্দ পাশাপাশি অবস্থান করে।
চোখ চায়, সে পায়, চোখ বোজে, সে হারায় – বেঁচে থাকলে সব পাওয়া যায়, মরেগেলে সব শেষ।
চোরের উপর বাটপারি – প্রতারককে প্রতারণা।
চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনী – অসৎ লোককে উপদেশ দান বৃথা।

ছাই ফেলতে ভাঙ্গা কুলো – অপদার্থ ব্যক্তি যাকে হীন বা অপ্রীতিকর কাজে লাগানো হয়।
ছুঁচো মেরে হাত গন্ধ – সামান্য প্রাপ্তির জন্য বড় ধরনের দুষ্কর্মে লিপ্ত হওয়া।
ছেঁড়া চুলে খোপা বাঁধা – পরকে আপন করার চেষ্টা, অসম্ভব কোন কিছু কল্পনা করা।
ছেলের হাতের মোয়া – ফাঁকি দিয়ে সহজে করায়াত্ত করা যায় এমন জিনিস।
ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি – ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব থেকে মুক্তি লাভের আকুলতা।

জলদি কাম(কাজ) শয়তানী, আস্তে কাম(কাজ) রহমানী – ধীরে – সুস্থে কাজ করা বাঞ্ছনীয়।
জাতে মাতাল তালে ঠিক – বিচার মানি তাল গাছটা আমার, স্বার্থসচেতন।
জামাই কৈন্যার দেখা নাই শুক্কুর বারে বিয়া – আগাম পরিকল্পনা।
জামা – জোব্বা বেশুমার আক্কল বিনা ছারখার – পোশাকের আড়ম্বর দ্বারা বুদ্ধির দৈন্য দূর করা যায়না।
জোঁকের মুখে নুনের ছিটা – দুষ্টু লোকের উপযুক্ত মোকাবেলা।

ঝাঁকের কই ঝাঁকে মেশা – দলছুটের পুনরায় দলে প্রত্যাবর্তন।
টোটো কম্পানির ম্যানেজার – কোন কাজ না করে বেকার বা ভবঘুরের মত থাকা।
ঠগ বাছতে গাঁ উজার – যেখানে মন্দের সংখ্যা বেশি সেখানে ভালো বাছা যায় না ।
ঠাকুর ঘরে কে? না, আমি কলা খাই নি – নির্বুদ্ধিতা, চালাকি ধরা পড়া।
ঠেকে শেখা আর দেখে শেখা – বাস্তব অভিজ্ঞতা জ্ঞানীর চেয়ে ভালো শিক্ষা দেয়,মূর্খ কষ্ট পেয়ে শেখে, বুদ্ধিমান অন্যের অভিজ্ঞতার ফল দেখে শেখে।
ঠেলার নাম বাবাজি – বাধ্য হয়ে নতি স্বীকার করা।
ঠেলেয় পড়ে ঢেলায় সেলাম – বিপদে পড়ে তুচ্ছ লোককেও খাতির করা।

ডানায় ভর দিয়ে চলা – শুন্যলোকে ভেসে বেড়ানো।
ঢাকি সুদ্ধ বিসর্জন – সমস্ত ব্যাপারের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করা।
ঢাক ঢাক গুড় গুড় – লুকোচুরি ।
ঢাক থুয়ে চণ্ডীপাঠ – হীন ব্যক্তির মহৎ কাজের চেষ্টা।
ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার – যোগ্যতা বা ক্ষমতাহীনের আড়ম্বর।
ঢেঁকির শব্দ বড় – ভিতরে যার কিছুই নেই তার বাজে বেশি।
ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে – অদৃষ্ট সঙ্গে সঙ্গে যায়।

তাল পাতার সৈন্য/ গৃহবাসী সৈন্য – ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার।
তুমি যাবে বঙ্গে কপাল যাবে সঙ্গে – যা হবার তাই হবে।
তেল কম ভাজা মচ মচ – আয়োজনের স্বল্পতা থাকলেও প্রত্যাশা বেশী হওয়া।
থর বড়ি খাঁড়া, খাঁড়া বরি থোর – বিরক্তিকর পুনরাবৃত্তি।
দক্ষিনে হাওয়া দেওয়া – তেলে মাথায় তেল দেওয়া।
দশ চক্রে ভগবান ভূত – দশজনের চক্রান্তে ন্যায়কে অন্যায় করা।
দৈত্যকুলে প্রহ্লাদ – যার চরিত্র বা আচরণ বংশের ধারার বিপরীত। ব্যাখ্যাঃ প্রহ্লাদের পিতা হিরণ্যকশিপু ছিলেন ঈশ্বর ভক্ত অপরদিকে প্রহ্লাদ ঈশ্বর বিরোধী, তাই দৈত্যকুলে প্রহ্লাদ একেবারেই খাপ খায় না।

ধরাকে সরা জ্ঞান করা – সব কিছুকে তুচ্ছ ভাবা।
ধরি মাছ না ছুঁই পানি – বুদ্ধির জোরে কষ্ট এড়িয়ে কার্যসিদ্ধি।
ধর্মের ঢাক আপনি বাজে – পাপ কোন দিন চাপা থাকে না।
ধারে না হলে ভারে কাটে – কোন না কোনভাবে কার্যসিদ্ধি।
ধুলো মুঠি ধরলে সোনা মুঠি হয় – ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে অল্পতেই বিরাট সাফল্য আসে।
ধেনো হাটে ওল নামানো – ধান ভানতে শিবের গীত।
ধেরের আশির্বাদে বিল শুকায় না – শকুনের দোয়ায় গরু মরে না।

নতুন নতুন খই এর মোয়া মচ মচ করে – শুরুতে সব বিষয়ের প্রতি মানুষের উৎসাহ বেশী বেশী থাকে।
নাকের বদলে নরুণ – যা প্রাপ্য তার চেয়ে অনেক কম পাওয়া।
নাচতে দাঁড়িয়ে ঘোমটা টানা – কৃত্রিম লজ্জা, কাজে নেমে লজ্জায় পিছিয়ে যাওয়া।
নুন আনতে পান্তা ফুরায় – টানাটানির সংসার।
নেংটির আবার বখেয়া সেলাই – বখেয়া অর্থ সেলাইয়ের একপ্রকার ফোঁড়। প্রবাদটির অর্থ দরিদ্রের বিলাসিতা সাজে না।
নেই কাজ তো খই ভাজ – প্রয়োজনীয় বিষয়ের অভাবে অপ্রয়োজনীয় কাজে শক্তি নাশ করা।
নয় মন তেলও পুড়বে না রাধা ও নাচবে না – যা কখনও সম্ভব নয়।

পঁচা শামুকে পা কাটা – তুচ্ছ কারণে বিপন্ন হওয়া।
পরকাল ঝরঝরে করে দেওয়া – সর্বনাশ করা।
পরের ঘাড়ে বন্দুক রেখে শিকার করা – অন্যের উপর নির্ভর হয়ে কাজ করা।
পরের মুখে ঝাল খাওয়া – অন্যের কথা বিশ্বাস করে কাজ করা।
পাইলাম থালে দিলাম গালে পাপ নাই তার কোন কালে – পড়ে পাওয়া জিনিস এর কোন মালিকানা নেই , যেই পাবে সেই নেবে ।
পাইয়া পরার ধন, বাপে পুতে করে কীর্তন – পরের ধনে পোদ্দারি।
পাথরে পাঁচ কিল – অদৃষ্ট সুপ্রসন্ন ।
পানি ঘোলা করে মাছ শিকার করা – কৌশলে কার্য সিদ্ধি করা।
পান্তা ভাতে ঘি নষ্ট, বাপের বাড়ী ঝি নষ্ট – বিয়ের পরে মেয়েদের বাবার বাড়িতে দীর্ঘ দিন থাকা ঠিক নয়।
পাশের বাড়ী বিয়ালো গাই, সেই সুত্রে পাড়াতো ভাই – দূর সম্পর্কের আত্মীয় সম্পর্কে (তুচ্ছার্থে)এ কথা বলা হয়।
পায় না তাই খায় না – অভাবী মানুষের জিনিসের প্রতি কপট অনীহা প্রকাশ করা।
পিঁড়েয় বোসে পেরু/পোরের খবর – নগণ্য লোকের গুরুত্বপূর্ণ খবর রাখা।
পিপীলিকার পাখা গজায় মরিবার তরে – পতনের পূর্বে বেশি রকমের বাড়াবাড়ি।
পিয়াদার আবার শ্বশুর বাড়ি – যার বিশ্রাম নেই তার আবার প্রমোদভ্রমণ।
পেটে খিদে চোখে লাজ – সংকোচ বশত মনের ইচ্ছা প্রকাশ না করা।
পেট কাটলে মশাও মরে, হাতিও মরে – বড় বিপদ ছোট – বড় সবার জন্য সমান বিপদজনক।
পড়িয়া বিপাকে গণেশ মাঝি গরু রাখে – বিপদে পড়ে স্বভাববিরুদ্ধ কাজ করতে বাধ্য হওয়া।
পয়সা নাই দুই আনা বউ চায় সেয়ানা – নিজের সামর্থ্য বা যোগ্যতার চেয়ে বেশী প্রত্যাশা করা।
ফেল কড়ি মাখ তেল – অর্থের বিনিময়ে ইচ্ছা পূরণ।
ফোঁপড়া ঢেঁকির শব্দ বেশি – অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী ।

বজ্র আটুনি ফস্কা গেঁরো – সতর্কতার মধ্যে অসতর্কতা।
বলং বাহু বলম – জোর যার মুল্লুক তার।
বাইরে কোঁচা লম্বা, ভেতরে অষ্টরম্ভা – বাইরে ফুটানি, ভিতরে ফাঁকা ও মিথ্যা আতম্ভরিতা ।
বাইরে ফিটফাট ভেতরে সদরঘাট – বাইরে কেঁচোর পত্তন, ভেতরে ছুঁচোর কেত্তন।
বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা – শত্রুর ঘরে গোপনে অবস্থান।
বাঘে গরুতে এক ঘাটে পানি খায় – যোগ্য শাসনে বাদী বিবাদী উভয়ে ভীত।
বাঘে ছুলে আঠারো ঘা – দুষ্ট লোকের পাল্লায় পড়লে কিছু না কিছু ক্ষতি হবেই।
বাছা শাকে পোকা বেশী – বেশী মাত্রায় খুঁতখুঁতানি থাকলে ভালো কিছু আশা করা যায়না।
বাণিজ্যে বসতে লক্ষী – ব্যবসাই অর্থের প্রসূতি ।
বাতাসের সঙ্গে লড়াই করা – বিনা কারণে ঝগড়া করা।
বাতাসে পাতিয়া ফাঁদ, ধরে দিতে পারি চাঁদ – দুরুহ কার্য সম্পাদন করে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস।
বামন গেল ঘর তো লাঙ্গল তুলে ধর – কর্মচারীদের উপর দৃষ্টি না রাখলে তারা কাজ করে না।
বারে বারে ঘুঘু তুমি খেয়ে যাও ধান, এবারে তোমায় ঘুঘু বধিব পরান – খারাপ মানুষ বদমায়েশিতে বারবার সফল হলেও শেষ পর্যন্ত তার শাস্তি হয়।
বারো মাসে তেরো পার্বণ – সর্বদা অনুষ্ঠানের ঘটা।
বাড়া ভাতে ছাই দেওয়া – নিশ্চিত সাফল্য হাতছাড়া করে দেয়া।
বিষ খেয়ে বিশ্বম্ভর – সমুদ্রমন্থন জাত হলাহল অর্থাৎ বিষ পান করেছিলেন বলে শিবের আর এক নাম নীলকণ্ঠ। শিবের প্রসঙ্গেই প্রবাদটি রচিত।
বিড়ালের ভাগ্যে শিকা ছেঁড়া – আকস্মিক সুযোগ লাভ।
বিয়ে করতে কড়ি, ঘর বাঁধতে দড়ি – উপযুক্ত কাজে উপযুক্ত অনুষঙ্গ।
বুকের মাঝে ঢেঁকির পাড় – অন্তর্বেদনা।
বুকে বসে দাড়ি উপড়ানো – আশ্রয়দাতা বা প্রতিপালকের অনিষ্ট সাধন করা।
বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ – বৃদ্ধ বয়সে শিশু বা যুবকের মতো আচরণ করা।
বুদ্ধিমান পায় না কুল মূর্খ আসে পাড় পেতে – হাতি ঘোড়া গেল তল, মশা বলে কত জল।
বোকার ফসল পোকায় খায় – নির্বোধেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বোঝার উপর শাকের আঁটি – অনেক কিছুর উপর সামান্য কিছু চাপানো।
বোবার শত্রু নেই – যে প্রতিবাদ করে না তার সঙ্গে বিবাদ হয় না।
ব্যাঙের আবার সর্দি – অবিশ্বাস্য ব্যাপার।
বড়র পিড়িতি বালির বাঁধ, ক্ষণেক হাতে দড়ি ক্ষনেক চাঁদ – উচু স্তরের সঙ্গে সম্বন্ধ ক্ষণস্থায়ী।
বড় গাছেই ঝড় লাগে – কর্তা ব্যক্তিকেই বিপদ আপদের দায় ভোগ করতে হয়।

ভরা পেটে সন্দেশে কয় ছুঁচোর গন্ধ – চাহিদা বা তৃপ্তি মিটে গেলে সুস্বাদু খাবারও বিস্বাদ মনে হয় ।
ভস্মে ঘি ঢালা – অর্থহীন অপব্যায়।
ভাই ভাই ঠাঁই ঠাঁই – নিকট আত্নীয়দের মধ্যে নিত্য কোন্দল।
ভাঙ্গবে তো মচকাবে না – দৃঢ়চিত্ত ব্যক্তি ক্ষতির ভয়ে ভীত হয় না।
ভাঙ্গা কপাল জোড়া লাগা – দুর্ভাগ্যের শেষ হওয়া।
ভাজা মাছটি উল্টে খেতে জানে না – কোন কাজেরই নয়, জানা বিষয়ে অজানার ভান করা।
ভাতারের নাই আদর, মুখে দেয় চাদর – স্বামীর সোহাগ না থাকলে একটি মেয়ের ভাল পোশাক পরে লাভ নেই।
ভানুমতির খেল – ভেলকিবাজি।
ভিক্ষা চাই না মা কুকুর সামলাও – বিপদ এড়াতে প্রয়োজনীয় কাজ পরিত্যাগ করা।
ভিমরুলে চাকে কাঠি দেওয়া – উত্তেজনায় ইন্ধন জোগানো, বিরুদ্ধবাদীদের খোঁচা দিয়ে উত্তেজিত করা।
ভূতের মুখে রামনাম – পাপীর ধর্মাচারণ, অসম্ভব ব্যাপার।
ভেক না ধরলে ভিক দিলে না – পেশা ও কাজের উপযোগী বেশভূষা দরকার হয়।

মজুরের কপালে খেজুরের চাটাই – দরিদ্র ব্যক্তির ভাগ্যে কম দামি জিনিসই জোটে।
মধু থাকলেই মৌমাছি – টাকা থাকলেই মোসাহেবরা চারপাশে ঘুরঘুর করে।
মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন – জীবনপণ চেষ্টা।
মহাভারত অশুদ্ধ হওয়া – ক্ষতি হওয়া।
মাছি মেরে হাত কালো করা – সামান্য লাভের জন্য অসম্মানের ভাগি হওয়া।
মাছের মায়ের পুত্র শোক – গুরুতর অপরাধীর মায়া কান্না।
মাছ চিনে গভীর জল পাখী চিনে উচু ডাল – নিজ নিজ পরিবেশ অনুযায়ী অভিজ্ঞতা লাভ হয়।
মাটিতে থাপ্পর পরলে, গুনাহগার চমকে উঠে। – চোরের মন পুলিশ পুলিশ – এর সমর্থক।
মাথার ঘায়ে কুকুর পাগল – বিষম বিপদে পড়ে পাগল হওয়া।
মাথা নেই তার আবার মাথা ব্যাথা – অকারণে দুশ্চিন্তা।
মারবো তো গন্ডার, লুটবো তো ভান্ডার – কোন কাজ করতে হলে বড় লক্ষ্য নিয়ে করা উচিত।
মারে ঠাকুর না মারে কুকুর – সবলকে সমীহ ও দুর্বলের প্রতি সমীহ।
মার চেয়ে মাসির দরদ – কপট মমতা।
মায়ের পেটে ভাত নেই বউয়ের চন্দ্রহার – মা কে উপেক্ষাকারী বউ পাগল ছেলে কে তিরস্কার!
মা নাই যার, না(নৌকা) নাই তার – মাতৃহীন সন্তানের দুরবস্থা ।
মা লক্ষ্মী চঞ্চল – ধনীদের পাখা গজায়।
মা’র চেয়ে দরদ যার তারে বলে ডাইনি – অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ।
মুঘল – পাঠান হদ্দ হল, ফারসি পড়েন তাতিঁ – পন্ডিতেরা যেখানে ব্যার্থ, মূর্খ লোক সেখানে হাস্যকর চেষ্টায় মাতে
মেও ধরে কে – (বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাধার গল্পে) দুরূহ কাজের মূল ঝুঁকির ব্যাপারটি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
মেও/ম্যাও ধরা – তোষামোদ করা।
মেঘে মেঘে বেলা হওয়া – বয়স বেড়ে যাওয়া।
মেয়ে ত নয় আগুনের ফুলকি – মুখরা বা দস্যি মেয়ে বুঝাতে।
মোগলের সঙ্গে খানা খাওয়া – বেকায়দায় পড়ে লাঞ্চনা ও অপমান সহ্য করা।

যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ – জীবনের শেষ মুহূর্তেও মানুষ বাঁচার জন্য সংগ্রাম করে।
যত দোষ নন্দঘোষ – মূর্খকে বারবার দোষী সাব্যস্ত করা, অন্যদের সব অপরাধের দায়, একজনের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা।
যথা ধর্ম তথা জয় – ন্যায়ের পথেই সাফল্য আসে।
যদি হয় সুজন তেঁতুল পাতায় নয় জন – মিলেমিশে কাজ করলে অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়।
যম – জামাই – ভাগনা তিন নয় আপনা – রক্ত সুত্রে আত্মীয় না হলে আপন হয় না।
যার দউলতে রামের মা তারে তুমি চেননা – যার দ্বারা কার্য সম্পন্ন হয় তাঁকে মূল্যায়ন না করা।
যেমন কুকুর তেমন মুগুর – দুষ্টের যথার্থ শাস্তি।
যেমন বুনো ওল তেমনি বাঘা তেঁতুল – বড় অপরাধীর কঠিন শাস্তিদাতা।
যেমন হাঁড়ি তেমন সরা – যোগ্য পাত্রীর যোগ্য বর।
যে খাইছে সাত বার, তার জন্য ভাত বাড়, যে খায়নাই একবার, তার জন্য চাল ঝাড় – তেলা মাথায় তেল দেয়া।
যে নয় আমার অনুগত, কাইন্দা প্রেম বাড়াবা কত – যে তোমার কথা শোনে না বা যুক্তি মানে না তাকে উপদেশ দেয়া বৃথা ।
যে বনে যাই সে ফল খাই – বুদ্ধিমান ব্যক্তি পরিবেশের সাথে সহজে খাপ খাইয়ে চলে।
যে যেমন ঢেমনি জগত দ্যাখে তেমনি – যে সাধু সে মনে করে জগত সাধুময় তেমনি যে চোর তার দৃষ্টিতে সাধু খুজে পাওয়া দুরহ ।
যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে – নানা ধরনের কাজ নিয়েই জীবন।

লক্ষ্মীর ঘরে কালো পেচাঁ – সৌন্দর্যের মধ্যে কুৎসিতের অবস্থান কিংবা মঙ্গলের মধ্যে অমঙ্গলের ছায়া।
লাভের গুর পিঁপরেয় খায় – সামান্য লাভ করতে গিয়ে অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া।
লাভের ধান টিয়ায় খায় – মুনাফা ও আনুষঙ্গিক খরচ সমান হলে।
লাল ঘরের ভাত খাওয়া – জেলে অবস্থান ।
লেবু কচলালে তিতা হয় – অতিরিক্ত কোন কিছু ভাল ন্য।
শকুনের চোখ ভাগারের দিকে – নীচ লোকের নজর নীচ স্বার্থের দিকে থাকে।
শত্রুর মুখে ছাই দেয়া – অনিষ্টকারীর আশা নির্মুল করা।
শরিরের নাম মহাশয়, যাহা সহাও তাহাই সয় – মানুষের শারীরিক ক্ষমতা তার চেষ্টার উপর নির্ভরশীল ।
শাক দিয়ে মাছ ঢাকা – ব্যর্থ চেষ্টা করা।
শিকারি বেড়াল গোঁফে চেনা যায় – হাবভাব দেখেই উদ্দেশ্য বোঝা যায়।
শিখণ্ডী খারা করা – কার্য উদ্ধারের জন্য কাউকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করা এবং তার আড়ালে থেকে কাজ হাসিল করা।
শিব গড়তে বাঁদর – ভালো করতে গিয়ে মন্দ করা।
শিয়ালের ডাক – অশুভ লক্ষণ।
শুয়োর বড় হলেও হাতি হয়না – আপন প্রকৃতিকে অতিক্রম করার সাধ্য কারো নেই।
শূন্য কলসি ঠন্ঠন্ – বিদ্যাহীন লোকের বাকচাতুরী বেশি।
শেয়ালের কাছে মুরগি বর্গা/ শুঁটকির বাজারে বিড়াল চৌকিদার – খিয়ানতকারীর কাছে আমানত রাখা।

সব শিয়ালের এক রা – সবার এক কথা।
সস্তার তিন অবস্থা – সস্তা দামের জিনিস প্রায়ই খারাপ হয়ে থাকে।
সাঁতার না জানলে, বাপের পুকুরেও ডুবে মরে – অনভিজ্ঞ ব্যক্তি সুবিধাজনক স্থানে থাকলেও বিপদগ্রস্ত হয়।
সাত ঘাটের কানা কড়ি – অকিঞ্চিতকর সংগ্রহ।
সাত ঘাটের জল খাওয়া – নাজেহাল হওয়া।
সাধলে জামাই কাঁঠাল খায় না, পগারে গিয়ে কৈতি চাটে – পেটে ক্ষুধা মুখে লাজ ।
সানাইয়ের পোঁ ধরা – অন্ধভাবে সমর্থন বা অনুকরণ করা।
সাপের পাঁচপা দেখা – অহংকারে অসম্ভবকে সম্ভব মনে করা, অত্যন্ত স্পর্ধিত হওয়া।
সোজা আঙ্গুলে ঘি ওঠে না – জটিল কাজ সম্পাদনে কূটকৌশলের প্রয়োজন হয়।
সোনার কাঠি রূপোর কাঠি – মরা বাঁচার বা এক মাত্র উপায়।

হবুচন্দ্র রাজার গবুচন্দ্র মন্ত্রী – মূর্খ/অযোগ্য লোকের মূর্খ/অযোগ্য সঙ্গী।
হাকিম নড়ে তো হুকুম নড়ে না – বিচারকের রায়ই চূড়ান্ত।
হাট – বাজারে লজ্জা নাই, ঘড়ে ফুলের কুড়ি – নির্লজ্জ মানুষের লজ্জাশীলতার ভান করা।
হাতের লক্ষ্মী পায়ে ঠেলা – উপস্থিত সুযোগ ত্যাগ করা।
হাত দিয়ে হাতি ঠেলা – অসম্ভবকে সম্ভব করার বৃথা চেষ্টা।